সোমবার
১৫ জুন ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (১৪ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ক্ষমতাবলে আমানতকারীদের স্বার্থ এবং বৃহত্তর জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কোরবানি ঈদের আগে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে ঈদের পর থেকেই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিরোধিতা করে ‘গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে একদল ব্যক্তি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা চেয়ারম্যান অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন।
চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যে গত কয়েক দিনে ব্যাংকটি থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন গ্রাহকরা বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর ব্যাংকটি পুনরায় ‘দখলের চেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গত বুধবার ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আশ্রাফুল আলমকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে পর্যবেক্ষক নিয়োগের পরও আন্দোলন থামেনি। সর্বশেষ শনিবার চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে ‘গ্রাহক ফোরাম’।
এরই মধ্যে রোববার ইসলামী ব্যাংককে তারল্য সংকট মোকাবিলায় আড়াই হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে বিকেলে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরই বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।