রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

১৬ জুন ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ট্রাম্পের দাবি, চুক্তি সম্পন্ন; খুলছে হরমুজ প্রণালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। সোমবার জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছে তিনি এ তথ্য জানান।

ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে আবারও উন্মুক্ত করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তির বিস্তারিত কবে প্রকাশ করা হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “সম্ভবত খুব শিগগিরই। শুক্রবারের পর কোনো এক সময়ে এটি জনসমক্ষে আনা হবে।”

এদিকে চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশের দাবি তুলেছে মার্কিন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জানার অধিকার রয়েছে এই সমঝোতায় কী রয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশ কী অর্জন করেছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমাদের সেনারা কি এখনও ঝুঁকির মধ্যে থাকবে? এই চুক্তির প্রকৃত শর্ত কী, তা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।”

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চুক্তির নাজুক অবস্থার ইঙ্গিত বহন করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর থেকে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

ইরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হওয়া তাদের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ইসরায়েল বলছে, আত্মরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন হলে তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির কোনো শর্ত নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি। হিজবুল্লাহ যদি পুনরায় হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েলের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার বহাল থাকবে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনের পথে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।