বুধবার
১৭ জুন ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


ক্রীড়া প্রতিবেদক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক বার্তা দিল আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কাতার বিশ্বকাপে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন মেসি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে ছুঁয়ে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড। আর মাত্র একটি গোল করলেই এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ম্যাচের শুরুতেই জালে বল জড়িয়েছিলেন রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসি। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। একইভাবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয় আলজেরিয়ার একটি গোলও।
১৭ মিনিটে আর ভুল করেননি মেসি। দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৪তম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির শট গোলরক্ষকের ভুলে জালে জড়িয়ে গেলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৫-তে, যা দিয়ে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর রেকর্ড স্পর্শ করেন।
৬৬তম মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের অসাধারণ সেভে বঞ্চিত হন মেসি। তবে ৭৬তম মিনিটে আর সুযোগ হাতছাড়া করেননি। দারুণ এক গোলে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক এবং নিশ্চিত করেন আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়।
হ্যাটট্রিকের পর ৮০তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে স্ট্যান্ডিং অভিবাদন পান মেসি।
এই ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আগের ১৯৯ ম্যাচে তার গোল ছিল ১১৭টি। আর এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও যোগ হলো আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায়।
ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসিই। অফসাইডে বাতিল হওয়া গোল, একাধিক দৃষ্টিনন্দন আক্রমণ এবং শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিলেন ফুটবলের এই মহাতারকা।