শনিবার
২০ জুন ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়াজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।
শনিবার (২০ জুন) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন।
টানা ৫০ দিনের সড়ক অবরোধে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, দেশের প্রধান সড়কগুলো অবরোধমুক্ত করতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বলিভিয়ার জনগণকে অবরোধের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে দেওয়া যায় না। এতে তাদের কাজ, পড়াশোনা, চিকিৎসা গ্রহণ এবং জীবিকা নির্বাহের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি জানান, জরুরি অবস্থা কার্যকরের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সড়ক যোগাযোগ সচল রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সরাসরি মাঠে কাজ করতে পারবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে। এরপর কংগ্রেসের হাতে থাকবে ৭২ ঘণ্টা—জরুরি অবস্থা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য।
এর আগে গত মাসে অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের অনুমতি দিয়ে একটি আইন স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট পাজ। তবে তিনি জানিয়েছিলেন, আলোচনার সব পথ ব্যর্থ হলে কেবল জরুরি অবস্থা জারি করা হবে। শনিবার তিনি দাবি করেন, সব ধরনের আলোচনার সুযোগ শেষ হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাত্র সাত মাস আগে ক্ষমতায় আসা মধ্যপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজ প্রায় দুই দশকের বামপন্থী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তিনি অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগ নেন।
তবে চলতি বছরের মে মাসে বাজেট ঘাটতি কমাতে জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর থেকেই দেশে ব্যাপক অসন্তোষ শুরু হয়। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি হ্রাস এবং চার দশকের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটির অর্থনীতি কঠিন সংকটের মুখে রয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি আন্দোলনরত শ্রমিক ইউনিয়নগুলো মজুরি বৃদ্ধি এবং ডলার ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিও জানিয়ে আসছে।