বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১ জুলাই দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বহু শিক্ষার্থী আত্মত্যাগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এখন দেশের সামনে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা কারিকুলাম আধুনিক ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ-বিদেশে কর্মরত অ্যালামনাইরা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো অ্যালামনাইদের পৃষ্ঠপোষকতায় গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সচেতনতার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনেরও পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।