শুক্রবার
০৩ জুলাই ২০২৬
২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত থেকে টানা ১১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই হামলাকে কিয়েভের ওপর সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আক্রমণ বলে দাবি করেছেন শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়ায়। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো টেলিগ্রামে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হতাহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রয়েছে।
হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশন এবং বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দারনিৎস্কি এলাকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ভবনের একাংশ ধসে পড়ে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র পাশের একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছে বিস্ফোরিত হয়ে বড় গর্ত সৃষ্টি করে এবং আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন ধরে যায়।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বড় ধরনের হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। পরে হামলা শুরু হলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
কিয়েভ মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় প্রায় ৫২ হাজার ৫০০ মানুষ, যার মধ্যে সাড়ে চার হাজার শিশু ছিল, মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা।
অন্যদিকে, মস্কো দাবি করেছে, ইউক্রেনের হামলার জবাবে কিয়েভের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে কিয়েভ সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।
তবে ইউক্রেন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই রাশিয়ার উদ্দেশ্য।
এদিকে ইউক্রেনীয় রেড ক্রস জানিয়েছে, হামলায় তাদের একটি প্রধান ত্রাণ গুদাম ধ্বংস হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ড মূল্যের মানবিক সহায়তা সামগ্রী নষ্ট হয়েছে, যা দেশজুড়ে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত দুই মাসে রাশিয়ার হামলার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। হামলার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও প্রতিটি হামলা এখন আগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী, আরও শক্তিশালী এবং অনেক বিস্তৃত এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।