বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শনিবার

০৪ জুলাই ২০২৬

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

বন্দর থেকে বিমানবন্দর—চট্টগ্রাম হবে বিনিয়োগের নতুন কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল ও অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, বন্দর, বিমানবন্দর, ফ্রি জোন, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং রেল অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। যে অঞ্চলের যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। সমুদ্রবন্দর, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের সুবিধার কারণে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পারে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক্যাল হাবে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়ন কাজ শেষ হলে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে। এতে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক করিডরের কার্যকারিতা আরও বাড়বে এবং দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনাও আরও গতিশীল হবে।

তিনি বলেন, মাতারবাড়িকে ঘিরেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই বাজেটে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বড় বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। তাই প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে, এরপর সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে গতি আনা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। দেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারের বিনিয়োগ বাড়ছে। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।