শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬
৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছেছে।
আগামীকাল রোববার (১২ জুলাই) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করবে সংস্থাটি।
সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করবে। এবারের আইএমএফ মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থাটির মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনার।
সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নিতে এ অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে সরকার জানায়, আগের ঋণ কর্মসূচির সময়কার অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখন অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবে আইএমএফ
সূত্র জানায়, এবারের আলোচনায় দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা, নতুন নিয়োগ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভাতার আর্থিক প্রভাব নিয়েও তথ্য চাইবে আইএমএফ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্ষেত্রে ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানির ব্যয়, পেট্রোবাংলার ভর্তুকি এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলোও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এসব বৈঠকের মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্ত ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, মুদ্রানীতির আধুনিকায়ন, ব্যাংক রেজোলিউশন, আমানত সুরক্ষা আইন, ঝুঁকিভিত্তিক ব্যাংক তদারকি, জলবায়ু সংস্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে সরকারের অগ্রগতিও তুলে ধরা হবে।
ঢাকা সফর শেষে আইএমএফ প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে সদর দপ্তরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আইএমএফের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়।
এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় দীর্ঘ আলোচনার পরও হয়নি। বর্তমানে নতুন ঋণ কর্মসূচির দিকেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ ও আইএমএফ।