বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

১৬ জুলাই ২০২৬

১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

অর্থ পাচার বন্ধ হলে উন্নয়নের চিত্র ভিন্ন হতো: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক অর্থ পাচার না হলে দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনেক সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব হতো। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে, যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদৌলা (সুজন মাহমুদ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সমতলে ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামে উচ্ছেদ বন্ধ এবং ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এই অর্থ পাচার না হলে আপনাদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। আমরা পর্যায়ক্রমে যেসব সমস্যা সমাধানযোগ্য, সেগুলো আগে সমাধানের চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে।”

দেশের বিদ্যমান সংকটের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে যেসব সমস্যা সমাধান হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা ও দায়িত্ব দুটোই বেড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আগের সরকার ধ্বংস করে গেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৩১ শয্যা নিয়ে। পরে বিএনপি সরকারের সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমান সরকার এসব হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর আরোপিত কর কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।