বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শনিবার

২৫ জুলাই ২০২৬

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

‘পরিচ্ছন্নতা হোক জীবনাচরণ’, নাগরিকদের প্রতি মেয়র শাহাদাতের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার মূল শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, “পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জীবনাচরণ।” তিনি প্রতি শনিবার নিজের বাসা, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তন ব্যক্তি ও পরিবার থেকেই শুরু হয়। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন সবাই যদি নিজ নিজ পরিবেশ পরিষ্কার রাখেন, তাহলে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে। সরকারি সংস্থার একার পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।

ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, শিশুদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে চসিক পরিচালিত স্কুলগুলোতে ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পরিচ্ছন্নতার মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

মেয়র জানান, চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। অবশিষ্ট প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য খাল, নালা ও উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং কর্ণফুলী ও হালদা নদীর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানিই যথেষ্ট। তাই ফুলের টব, ছাদ, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্রসহ কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে উপজেলাগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১টির কাজ শেষ হয়েছে। নাগরিক সেবা সহজ করতে একটি আধুনিক ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ ও গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের প্রকল্প এগিয়ে চলছে বলে জানান মেয়র।

এছাড়া হালিশহর ও আরেফিন নগরের ল্যান্ডফিল উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে নগরের ২০টি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।