রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬
৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


উপজেলা প্রতিনিধি:: নবগঠিত ৫০১তম প্রশাসনিক উপজেলা ‘ফটিকছড়ি উত্তর’-এর সদর দপ্তরের স্থায়ী কার্যালয়ের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।
ভৌগোলিকভাবে মধ্যবর্তী স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও সড়ক অবরোধ। অন্যদিকে সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিন এলাকায় পাল্টা সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বানে বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে হরতাল ও সড়ক অবরোধ শুরু হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত সদর দপ্তরের স্থান পশ্চিম ভূজপুর মৌজা উপজেলার একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষকে প্রশাসনিক সেবা নিতে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তাই দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবি জানান তারা।
হরতালের কারণে ঢাকা-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং বারইয়ারহাট-হেয়াঁকো-ফটিকছড়ি সড়কে দূরপাল্লার ও স্থানীয় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে সকাল থেকে হারুয়ালছড়ি, ভূজপুর এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নের একটি অংশের বাসিন্দারা সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানেই সদর দপ্তর বহাল রাখার দাবিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
হরতালবিরোধীদের দাবি, ভূজপুর থানা সংলগ্ন পশ্চিম ভূজপুর মৌজাই প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও নিরাপদ স্থান। সেখানে থানা ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ইতোমধ্যে রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ অহেতুক হরতাল ও সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
আন্দোলনের নেতা হাসান সামসুদ্দিন বলেন, তাদের আন্দোলন নতুন উপজেলা গঠনের বিরুদ্ধে নয়; বরং সদর দপ্তরের অযৌক্তিক স্থান নির্ধারণের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ছয়টি ইউনিয়নের মানুষ যাতে সমানভাবে প্রশাসনিক সেবা পায়, সে জন্য মধ্যবর্তী স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান চৌধুরী শিপন বলেন, সরকার সবদিক বিবেচনা করেই পশ্চিম ভূজপুর মৌজাকে সদর দপ্তর হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অবকাঠামো রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে হরতাল ডেকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
একই উপজেলায় একদিকে হরতাল, অন্যদিকে পাল্টা সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।