রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬
৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িতদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী নন; তারা জামায়াতপন্থি ইসলামপন্থি মৌলবাদী বলে দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার পেছনে বিদেশি শক্তির মদদ ছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতায় জড়িয়েছে, তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শিক্ষার্থী নয়, বরং জামায়াতপন্থি মৌলবাদী। তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তদন্ত সংস্থাগুলো তা খতিয়ে দেখবে।
গত শুক্রবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এ ঘটনার পর সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজ্যের সদ্য প্রণীত অ্যান্টি-গুন্ডা আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। শুভেন্দু বলেন, যারা সহিংসতায় অংশ নিয়েছে, তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও মনে রাখবে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিধানসভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নন এবং তাদের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযান, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বিক্ষোভ চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করে বলেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়।
এদিকে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং দোষীদের জন্য সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসের পর আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শনিবার তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।