বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

০৪ আগস্ট ২০২৬

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

‘আরেকটু সময় দিন’—জ্বালানি সংকট নিয়ে নাগরিকদের কাছে আবেদন তথ্য উপদেষ্টার

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শিগগির গ্যাসের সংকট কেটে যাবে এবং তা কাটলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামনে জ্বালানি ও কৃষি খাতকে অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের ব্যাপারে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। বড় দুর্ঘটনা না হলেও টার্মিনালটি কাজ করতে পারছে না, যার ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর জেরে শিল্প খাত ও বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, আমদানি করা গ্যাস এলএনজি টার্মিনালে এনে রিগ্যাসিফিকেশন করতে হয়। দেশে এমন দুটি প্ল্যাটফর্মের একটি পরিচালনা করে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, এবং সেখানেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকার বাইরে প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে এবং তীব্র গরমের মধ্যে মানুষ বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন। তিনি নিজেও এই সংকটের ভুক্তভোগী বলে জানান—তাঁর নিজের বাসাতেও গ্যাসের চাপ থাকছে না।

তিনি বলেন, শিল্প, বাসাবাড়ি ও সিএনজি পাম্পগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে, ফলে সিএনজি অটোরিকশা ও গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, লোডশেডিং এড়াতে সরকার ব্যয়বহুল তরল জ্বালানি (ডিজেলভিত্তিক) দিয়েও বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যদিও এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। এরপরও চাহিদা পুরোপুরি সামলানো যাচ্ছে না, কারণ গ্যাস সংকটের কারণে অনেকে বাসাবাড়িতে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন এবং ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রনির্ভর শিল্পগুলোও এখন গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনিশ্চিত—কখনো মনে হচ্ছে সংকট কাটছে, কখনো মনে হচ্ছে আরও খারাপ হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সার পরিবহন করা হয়, এবং বাব-আল-মানদেব প্রণালিতেও সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে।

জাহেদ উর রহমান নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কিছু প্রভাব দেশের ওপর পড়ার ঝুঁকি থাকলেও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে লোডশেডিং ও গ্যাস সংকট ধাপে ধাপে কমে আসবে।

ভবিষ্যতে এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বাড়ানো এবং নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়েও কাজ করছে সরকার, যদিও এসব উদ্যোগ ফল দিতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বর্তমান মেয়াদে তা সম্ভব হবে না। স্থলভাগে গ্যাস পাওয়া গেলে তা মেয়াদের শেষ দিকে মিলতে পারে বলে জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে আরও সময় চান।

তিনি মন্তব্য করেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা দেশগুলো সংকটে থাকবে, আর বাংলাদেশ বহিঃনির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।