শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার

০৮ আগস্ট ২০২৬

৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

'কোনো অবস্থাতেই গণতন্ত্র ধ্বংস করা উচিত নয়'—হাফিজ উদ্দিনের আহ্বান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: মহান মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এটি ছিল জনগণের যুদ্ধ—গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেসের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসের অনেক ঘটনা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। অসংখ্য তরুণ, সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং সামরিক-বেসামরিক মানুষ জীবন উৎসর্গ করে দেশ স্বাধীন করলেও তাদের অনেকের আত্মত্যাগ ইতিহাসে যথাযথভাবে স্থান পায়নি।

তিনি বলেন, শুধু কয়েকটি ভাষণ বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সীমাবদ্ধ নয়। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বাঙালি সদস্যদের প্রতিরোধ, ছাত্র-যুবকদের অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ—সবকিছু মিলেই গড়ে উঠেছিল মহান মুক্তিযুদ্ধ।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ ছয় দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেই গণরায়কে উপেক্ষা করে। পরবর্তীতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন শুরু হলে বাঙালি সৈনিকরা বিদ্রোহ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

তার ভাষ্য, ১৯৭১ সালের মার্চে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের সদস্যরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে না তুললে স্বাধীনতার ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মানসিকতাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সীমিত খাবার, কঠিন জীবনযাপন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সত্ত্বেও তরুণরা দেশের জন্য যুদ্ধ করতে উদগ্রীব ছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা ব্যক্তিগত কৃতিত্বের জন্য যুদ্ধ করেননি। দেশের অস্তিত্ব, মানুষের জীবন এবং মা-বোনের সম্মান রক্ষার জন্যই তারা অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন।

বক্তব্যে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। বিশেষ করে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের মানুষ যে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেটিও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে রাজনীতিকদের আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

দেশে আর কোনো স্বৈরশাসনের সৃষ্টি হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার ভুল করলে জনগণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা সংশোধন করবে। তবে কোনো অবস্থাতেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা উচিত নয়।

তিনি বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মেজর এ মতিন চৌধুরী। পরে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। সংগঠনের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিরান হামিদুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান।