শনিবার
১৫ আগস্ট ২০২৬
৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: গ্যাস-সংকটের কারণে দেশের কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এসব বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় একটি কৃষিবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, গ্যাস-সংকটে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের সরকারের আমল থেকে পাওয়া উত্তরাধিকার।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে মাটির নিচ থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে এবং দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়—সব মিলিয়ে দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি, যা চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
গ্যাস-ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান বাড়ানোকে অন্যতম উপায় বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গ্যাস অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং বাপেক্স ও এর অধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে, যদিও কবে কী পরিমাণ গ্যাস মিলবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এলএনজি আমদানি বাড়াতে নতুন এফএসআরইউ স্থাপন ও পাইপলাইন বসাতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান মন্ত্রী। বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে এলএনজি স্থানান্তর করে সরবরাহের চেষ্টা চলছে, তবে পেট্রোনাসের জাহাজ ব্যস্ত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। বিষয়টি সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অবনতির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, গত ৫ থেকে ১০ দিনে একটি এফএসআরইউতে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা ও অন্যটির বয়লার নষ্ট হওয়ায় সংকট বেড়েছিল। একটিতে ইতিমধ্যে ফের গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে এবং অন্যটির একটি বয়লার মেরামত করা হয়েছে, আরেকটির মেরামত চলছে। পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি প্রায় এক মাস আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শীতকালে একই সময়ে চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে বলে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে আগের বছরগুলোর তুলনামূলক পরিসংখ্যানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।