বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬
২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


শাহরিয়ার মুনির জিসান: লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের ৫৫তম জশনে জুলুস। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ.)।
বিপুল জনসমাগম পেরিয়ে জুলুস অপর প্রান্ত টাইগারপাসে পৌঁছায় দুপুর সাড়ে ১২টায়। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভক্তরা হুজুর কেবলার গাড়ি অনুসরণ করে জুলুসে অংশ নেন এবং একই পথে ফিরে আসেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে।
জুলুসে অংশগ্রপীর সাবির শাহর নেতৃত্বে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হলো নাত-দরুদহণকারী ও পথচারীদের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও আগ্রহী মানুষ পানি, শরবত, খেজুর, কলা ও বিরিয়ানি বিতরণ করেন।
জুলুস উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলে আশেকরা নগরে আসেন, যার ফলে কিছু সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ রাখা হয়।
১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে এই জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
আল্লামা সাবির শাহ বলেন, প্রিয় নবীর আগমনে খুশি উদযাপন করা কোরআন-হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। তিনি বলেন, আল্লাহ নেয়ামত প্রাপ্তিতে আনন্দ উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন, আর সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.) সব সৃষ্টির জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামত।
তিনি আরও বলেন, জশনে জুলুসে শরীয়তবিরোধী কোনো কাজ হয় না, বরং এখানে কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল পাঠ ও সীরাত আলোচনা হয়ে থাকে, তাই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে পারাকে তিনি সৌভাগ্যের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
জুলুসে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ শামসুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট সদস্য পেয়ার মোহাম্মদ, মাহমুদ নেওয়াজ, মহিউদ্দিন খোকনসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।