শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

২৭ আগস্ট ২০২৬

৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি নজরুল: রিজভী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির অন্যতম উৎস বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি সংগ্রামেই নজরুলের লেখনী ও আদর্শ মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান—সব কিছুতেই নজরুলই মূল অনুপ্রেরণা।’

তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করলে নজরুলের বাণী মানুষকে রুখে দাঁড়াতে শেখায়। যেকোনো অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহসও তিনি তাঁর লেখনী ও আদর্শের মাধ্যমে দিয়েছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আমাদের শক্তির একটি উৎস।’ কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের মতো মহীরুহ প্রতিভার জীবন, সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে যে চর্চা ও অনুশীলন প্রয়োজন, দেশে তা আবারও শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নজরুল আমাদের প্রেরণা। তাঁর লেখনী, সাহিত্যকর্ম ও বাণী বুকে ধারণ করে আমরা পথ চলি। নজরুল আমাদের নির্ভয় করেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগান।’

এ সময় রিজভীর সঙ্গে বিএনপির সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর আহ্বায়ক হেলাল খান, সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকনসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেম, দ্রোহ ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর বিদ্রোহী চেতনা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’। ব্রিটিশবিরোধী লেখালেখির কারণে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধসহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় রয়েছে তাঁর অনন্য অবদান।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।