বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬
৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। স্বামী তৌফীক নাওয়াজের মৃত্যুর পর এখন আর বাসায় ফেরার তাড়া অনুভব করছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির করা হয় দীপু মনিকে। এদিন তার জামিন আবেদনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।
শুনানি শুরুর আগে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে কথা বলেন তিনি।
দীপু মনি বলেন, “আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।”
তিনি বলেন, আগে জামিনের শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল থেকে বলা হয়েছিল, ‘বাসায় গিয়ে কী করবেন?’ এখন তার আর বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
স্বামী তৌফীক নাওয়াজ দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন, সাত বছর ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং বাকশক্তিও হারিয়েছিলেন। কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন।
দীপু মনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি পাঁচ বছর শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছেন। পরবর্তীতে বাড়ি ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে আশ্রিত অবস্থায় থাকায় স্বামীর পাশে থাকতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, “৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারিনি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।”
উল্লেখ্য, তৌফীক নাওয়াজ গত ১৮ আগস্ট রাতে মারা যান। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চার মাস আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। স্বামীর শেষ সময়ে কাছে থাকার জন্য গত ২৬ এপ্রিল দীপু মনির পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়েছিল।
দীপু মনির বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা ব্যথিত এবং তার আবেদনের যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে জামিনের বিষয়ে আরও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হবে।
পরে ট্রাইব্যুনাল দীপু মনির জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।