মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

"১০০ পুলিশেও রক্ষা নেই"—হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৭

স্টাফ রিপোর্টার: বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেদের পরিচয় দিত ডেভিড ইমন, বড় সাজ্জাদ কিংবা রায়হানের মতো পরিচিত সন্ত্রাসীদের নামে। এরপর দাবি করা হতো মোটা অঙ্কের চাঁদা। রাজি না হলে হুমকি দেওয়া হতো— শত পুলিশের পাহারাতেও রক্ষা মিলবে না।

এমন কৌশলে ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসা একটি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে হাটহাজারী, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কামরুল হাসান প্রকাশ সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ প্রকাশ মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০)।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসককে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, রাজি না হলে দেওয়া হয় হত্যার হুমকি। একই কায়দায় বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীকেও টার্গেট করে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ঘটনার পর তদন্তে নামে পুলিশ। ফোনকল ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ এবং গোপন সূত্রের পাশাপাশি আগে গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও তদন্তে কাজে লাগে বলে জানান পুলিশ সুপার।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতেন এবং টার্গেট ব্যক্তি সম্পর্কে আগে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিচিত সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে ভয় দেখাতেন— যদিও প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরাই আলাদা একটি চাঁদাবাজ চক্র পরিচালনা করছিলেন। অভিযানে চারটি মোবাইল ফোন ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ডাকাতির প্রস্তুতি, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।