বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

শুক্রবার

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

নিজেই অপহরণ, নিজেই মুক্তিপণ! অনলাইন জুয়ার ঋণ শোধে যুবকের অভিনব কাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হন মো. আরিফুর রহমান (২৯)। সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে শেষ পর্যন্ত নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। র‌্যাব-৭-এর অভিযানে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সীতাকুণ্ড থানাধীন ভাটিয়ারী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মেসার্স রাকিব ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সামনে অভিযান চালিয়ে আরিফুর রহমানকে উদ্ধার করে র‌্যাব-৭।

উদ্ধার হওয়া আরিফুর রহমান জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার শান্তা গ্রামের সামছুল আজমের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় বসবাস করে ফুটপাতে জামাকাপড়ের ব্যবসা করতেন।

র‌্যাব জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আরিফুর রহমান তার এক বন্ধুর সঙ্গে ভাটারা থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোডের সাহারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে ছিলেন।

একপর্যায়ে বিকাশে টাকা ক্যাশ আউট করার কথা বলে বন্ধুকে সেখানে রেখে কাছের একটি বিকাশের দোকানের উদ্দেশে চলে যান তিনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও ফিরে না আসায় তার বন্ধু মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

পরে তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর আরিফুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার ভাইয়ের মোবাইলে ফোন করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। ফোনে জানানো হয়, আরিফুর রহমানকে অপহরণ করা হয়েছে।

তাকে জীবিত ফেরত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় আরিফুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে ডিএমপি ঢাকার ভাটারা থানায় ১০ সেপ্টেম্বর একটি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর-১৬; এতে পেনাল কোডের ৩৬৫/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

পরবর্তীতে র‌্যাব-৭ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কথিত অপহরণের শিকার আরিফুর রহমান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থান করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত।

এ কারণে বর্তমানে তিনি প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ওই ঋণের টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যেই তিনি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

র‌্যাব-৭ জানায়, উদ্ধার হওয়া আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।