বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয়ে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রকল্প-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ, খাল-নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে, পানি প্রবাহ কীভাবে স্বাভাবিক রাখা হবে এবং ছোট-বড় খাল, নালা ও ড্রেনের মধ্যে কার্যকর সংযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব বিষয় শুরু থেকেই পরিকল্পনায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। তবে প্রকল্পের শুরু থেকেই সিটি কর্পোরেশনকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন ছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খাল, ড্রেন ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব স্পষ্ট না হলে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

পানি সম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, একটি অংশের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অন্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকলে কোথাও পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই চলমান প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি সমন্বিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের জনবল, বরাদ্দ ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন কোনো একক সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড, চসিক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় খাল-নালা পরিষ্কার, সংস্কার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সাল থেকে বহদ্দারহাটসহ অনেক এলাকায় আগের তুলনায় পানি জমার সময় ও স্থায়িত্ব কমেছে। তবে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড় কাটার কারণে সৃষ্ট মাটি-বালু খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাওয়াও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। নগরীর প্রায় ৪০টি খাল নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের একটি ডিপিপি রয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর প্রকল্পের আওতায়ও বেশ কয়েকটি খালের সংস্কার ও পুনঃখননের কাজ চলছে।

মেয়র আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সেনাবাহিনী খাল ও জলাধারের জায়গা উদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলমান প্রকল্পগুলোর আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, বড় খাল সংস্কার ও সুইসগেট নির্মাণের পাশাপাশি ছোট নালা ও খালগুলোর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ছোট নালা থেকে বড় খাল এবং সেখান থেকে নদী পর্যন্ত পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না হলে শুধু বড় খাল সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো একটি খাল বা নালা সংস্কার না করে পুরো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। খাল, নালা, ড্রেনেজ ও পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর মধ্যে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর চলমান প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। এসব কাজ বাস্তবায়নে প্রায় ৫ হাজার ৭০০টি বৈধ ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থাপনা অপসারণ এখনো বাকি রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু খাল সংস্কার করলেই হবে না; কাজ শেষ হওয়ার পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। খাল দখল, ময়লা-আবর্জনা ও পুনরায় ভরাট ঠেকাতে কার্যকর নজরদারিও প্রয়োজন।

সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মো. জানে আলম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল তারিকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

মতবিনিময় সভায় চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থা, পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা, খাল দখল ও ভরাট, রেগুলেটর ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়।