বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার

০৬ অক্টোবর ২০২৬

২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি একটি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের যথাযথ বিকাশের ওপর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আয়োজনটি মূলত শিশুদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনিও একসময় শিশু হিসেবে এখানে এসেছিলেন। একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তার ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত বোর্ডে সেই পুরোনো লেখা দেখে শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে বলেও জানান তিনি।

শিশুদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, “আমি তোমাদের কাছে পড়ালেখার কথা বলব না। আজকে আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। কেউ ভালো ছবি আঁকে, কেউ গান বা নাচ পছন্দ করে, আবার কেউ কোরআন তেলাওয়াত করতে ভালোবাসে। এসব প্রতিভা বিকাশে শিশুদের উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ করে দিতে হবে।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ২২ লাখ শিশু—১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে—ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এখান থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ ছাড়া শিশুদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম নতুন করে চালুর উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য শিশুদের প্রস্তুত করতে স্কুল পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিজসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সবশেষে শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, পশুপাখি ও পরিবেশের প্রতি শিশুদের সদয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে। এভাবেই ভবিষ্যতে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।