সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার

১০ অক্টোবর ২০২৬

২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলন: আটক মমতা ও কেজরিওয়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা দিল্লি অভিযান ও বিক্ষোভকে ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি।

কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর থেকে দিল্লি পুলিশ, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে।

সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী, সাংবাদিক অভিজিৎ সেনগুপ্ত এবং বামপন্থী ও বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতাকে বিমানে ও রাস্তায় ভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভোটার তালিকা থেকে বিপুল মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সিজেপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দিল্লিতে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় রাস্তায় বসে বিক্ষোভকালে তাকে আটক করে পুলিশ গাড়িতে তোলে। অন্যদিকে একই অভিযোগে যন্তর মন্তর অভিমুখে মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক হন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

কেজরিওয়াল এই ধরপাকড়কে মোদী সরকারের ‘স্বৈরাচারী মানসিকতা’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর আগে সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই প্লেনের ভেতর থেকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়।

আটকের মুহূর্তে প্লেনেই সমর্থকদের নিয়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন সিজেপি নেতারা। তবে আগাম আশঙ্কার অংশ হিসেবে আন্দোলন সচল রাখতে বিকল্প হিসেবে অজিঙ্কা শিন্ডেকে দল ও আন্দোলনের প্রধান করার বার্তা দেন অভিজিৎ।

বিক্ষোভ ঠেকাতে গোটা দিল্লিতে জারি করা হয়েছে কঠোর প্রশাসনিক বিধি। ৫৭টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করার পাশাপাশি সংবেদনশীল ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট ও যোগাযোগ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

দিল্লির রাজপথসহ সংযোগস্থলগুলোতে মোতায়েন রয়েছে প্রায় ২৩ হাজার পুলিশ সদস্য। আন্দোলন দমন করতে ইতোমধ্যে রাজধানী জুড়িয়া ৩ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী ও শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে বামপন্থী দল ও তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুলিশের এই ধরপাকড়ের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। আটক সত্ত্বেও যন্তর মন্তর কেন্দ্রিক এই নির্বাচন কমিশনবিরোধী সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধীরা।