শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

২২ অক্টোবর ২০২৬

৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

সাজেকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর ছাড়ার পর গোলাগুলি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে প্রায় দুই হাজার পর্যটক উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় পর্যটকেরা সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তবে আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উজোবাজার এলাকায় তাঁদের যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।

অবরোধকারীরা উজোবাজার এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় পর্যটকেরা সেখান থেকে এগোতে পারছিলেন না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজোবাজার এলাকা ছাড়ে। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয় বলে পুলিশ জানায়।

গত বুধবার সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ অবরোধ চলবে। এ কারণে বুধবারের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার কথা জানান। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে বৃহস্পতিবার সকালে সাজেক ছাড়তে শুরু করেন পর্যটকেরা। তবে যাত্রা শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই বাঘাইছড়ির উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের মুখে পড়েন তাঁরা।

সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন বলেন, সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাজেক থেকে পর্যটকবাহী যানবাহন খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কিন্তু অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গাড়িবহর ছেড়ে যায়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ত্যাগ করেন।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। সে সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।

অবরোধকারী সংগঠনগুলোর তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। গত ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিল সংগঠন দুটি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এদিকে অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছেড়ে যেতে হচ্ছে।

অনেকেই রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। সড়ক অবরোধের কারণে শুধু পর্যটক ও ব্যবসায়ীরাই নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েন। এতে খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা এবং কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি হয়।