শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার

২৪ অক্টোবর ২০২৬

৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ গড়তে চাই: আইজিপি

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণসহ নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মহানগর পুলিশ লাইনসে কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইজিপি।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকেই সমাজে প্রভাবশালী। কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, আবার কেউ ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত থেকে এসব অপরাধ করে। ভয়ের কারণে অনেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বা থানায় অভিযোগ করতে চান না।

আইজিপি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চাঁদাবাজি দমনে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন আইন হতে পারে। এর মাধ্যমে পুলিশ নিজেই মামলা করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণসহ যেকোনো ধরনের গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমানো এবং হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশের কার্যক্রমের কারণে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কাজ করছে।

তিনি জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি দমনে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপি বলেন, অপরাধীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। বল প্রয়োগ করলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, আবার বল প্রয়োগ না করলে পুলিশকে দুর্বল বলা হয়।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আইজিপি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক সমস্যা সমাজে বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সময় বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অনুপস্থিতিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছিল। বর্তমানে পুলিশ সর্বত্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বেকারত্বসহ দেশের বিভিন্ন সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশকে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান আইজিপি। তিনি বলেন, পুলিশ মানবিক ও জনবান্ধব হতে চায়। একই সঙ্গে অপরাধীদের বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।