রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

রবিবার

২৫ অক্টোবর ২০২৬

৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

চট্টগ্রাম হবে সব ধর্মের মানুষের নিরাপদ ও সম্প্রীতির নগরী: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রামকে সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, নান্দনিক ও সম্প্রীতির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, “আমরা চাই, চট্টগ্রাম হবে সব ধর্মের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ নগরী, সম্প্রীতির নগরী ও সাম্যের নগরী। আসুন, সবাই মিলে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তুলি।”

রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রবরণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহ্যগতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এ নগরে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করবে। কোনো অপশক্তি যেন নগরীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি শান্তিপূর্ণ নগরী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য ও গৌতম বুদ্ধের জন্মস্মৃতির প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, গৌতম বুদ্ধের জন্মের সঙ্গে পদ্মফুলের যে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য জড়িয়ে আছে, সেই ভাবনা থেকেই বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় গুরুদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী এ উদ্যোগকে আরও নান্দনিকভাবে সাজানো হবে। এ ক্ষেত্রে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নতুন নকশা ও পরামর্শ দেওয়া হলে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যের বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, “গাহি সাম্যের গান—মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।” তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক নগরীতে পরিণত করতে হবে।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মেয়র বলেন, নগরীর কালুরঘাট এলাকায় তাদের জন্য একটি জায়গা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি সব সময় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মেয়র প্রবরণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি বলেন, “জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।”

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরু, নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।