সোমবার
২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


পটিয়া প্রতিনিধি: নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া কামাল নিহাতের মৃত্যু ঘিরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় তৈরি হয়েছে রহস্য ও শোক। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে বিয়ের পর থেকেই তাঁকে নির্যাতন করা হতো।
পুলিশ বলছে, তানিয়ার গলায় দুটি দাগ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী নুর উদ্দিনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের মোনাফ হাজির পাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, হাসপাতালে নেওয়ার পথে তানিয়ার মৃত্যু হয়।
পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, রাতে বিরিয়ানি খাওয়ার পর তানিয়ার ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল বলে পরিবারকে জানানো হয়েছিল। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ওসি আরও জানান, তানিয়ার গলায় দুটি দাগ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।
তানিয়ার পরিবারের ভাষ্য, তাঁর সঙ্গে নুর উদ্দিনের চার-পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। কয়েক মাস সংসার ভালো চললেও পরে পারিবারিক কলহ শুরু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তানিয়াকে নির্যাতন করা হতো। গত ঈদে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নতুন কাপড় ও উপহার দাবি করেন।
রমজান মাসে সাধ্যমতো উপহার দেওয়া হলেও সম্প্রতি আবারও কাপড়চোপড় ও যৌতুক চাওয়া হয়। দাবি পূরণ করতে না পারায় তানিয়ার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েক দফা সালিস-বৈঠকও হয়েছিল, কিন্তু সমাধান হয়নি।
তানিয়া পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের মেয়ে। স্বামী নুর উদ্দিন (২৫) হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরকানাই মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে তানিয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক, না অন্য কোনো কারণে। ততক্ষণ পর্যন্ত নুর উদ্দিন পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি।