মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার

২৭ অক্টোবর ২০২৬

১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশ বিদ্যুৎহীন, বিপর্যয়ের কারণ অজানা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: দেশের বড় একটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে একটার দিকে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। তবে এ বিপর্যয়ের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি জানিয়েছে, ঢাকার পূর্বাঞ্চলের ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকাও বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। চট্টগ্রামেরও কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করছেন বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকাজেও। প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষার পরও বিদ্যুৎ না ফেরায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। মঙ্গলবার আর বিচারকাজ না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এর আগে কখনো ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল কি না, তা তাঁর মনে পড়ছে না।

এদিকে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। তবে এ ঘাটতির সঙ্গে বর্তমান বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিপর্যয়ের সূত্রপাত ও কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। জাতীয় গ্রিডে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এর আগে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল। সেদিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। পরে বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।

এ ছাড়া ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।