বুধবার
২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার গঠনের প্রত্যয় জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে শুরুতে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে চিত্র পাল্টে যায়।
দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসনে এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, আরব লিস্ট ১৯টি আসনে জয় পাওয়ার পথে রয়েছে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
নির্বাচনে একক দল হিসেবে লিকুদ পার্টি সবচেয়ে ভালো ফল করার আভাস পাওয়ায় জেরুজালেমে দলের প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে হাজির হন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার পরই সরকার গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু কোনো জোটই এখন পর্যন্ত সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি। নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলে সরকার গঠন বা পরিচালনা করা হবে না। ফলে আরব দলগুলো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন পেলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে, বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াসার দলের প্রধান গাদি আইজেনকট চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলাফল-পরবর্তী বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। জনগণের অনাস্থা মেনে নিয়ে নেতানিয়াহুর সম্মানের সঙ্গে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করাকে দেশের জন্য মারাত্মক ভুল হিসেবে উল্লেখ করে আইজেনকট বলেন, সব পক্ষকে নিয়ে একটি দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠনে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দর-কষাকষি ও মেরুকরণ আরও বাড়তে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল এবং সম্ভাব্য জোট গঠনের ওপর নির্ভর করছে দেশটির পরবর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ।