বুধবার
২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলে আঘাত হেনেছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে বুধবার ভোরে স্থলভাগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। এ সময় এর একটানা বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুধু অন্ধ্র প্রদেশের কোনাসীমা জেলাতেই প্রায় ছয় হাজার বিদ্যুতের খুঁটি ও অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বিশাখাপত্তম ও বিজয়ওয়াড়া বিমানবন্দর থেকে একাধিক ফ্লাইট এবং বেশ কিছু ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে এক থেকে দেড় মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশার নিচু এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওড়িশায় ৩১৩টি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘অর্ণব’ নামের এ ঘূর্ণিঝড়ের আংশিক প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি বড় ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বুধবার দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এ ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।