শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার

৩০ অক্টোবর ২০২৬

১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৯শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

২০২৬ সালে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে ৩২ শতাংশ, পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: চলতি বছর বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য গড়ে ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং প্রতিকূল আবহাওয়াকে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

এ সময়ে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে ২০২৭ সালে সামগ্রিক পণ্যমূল্য কমার সম্ভাবনা থাকলেও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’-এর অক্টোবর ২০২৬ সংস্করণে এসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এই দাম ছিল ৬৯ ডলার। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ২০২৭ সালে তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নেমে আসতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তেলের মজুত কমে যাওয়ায় নতুন করে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার পরিশোধিত জ্বালানি তেলের উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাধা বিশ্ববাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দুই বছরে খাদ্যপণ্যের দাম সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য রপ্তানিতে বাধা, এল নিনোর প্রভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য কৃষিপণ্যের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। গত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দাম ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৭ সালে এ দাম আরও ৯ শতাংশ বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং এল নিনোর প্রভাব আশঙ্কার চেয়ে বেশি হলে খাদ্যপণ্যের বাজারে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর্যায়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাড়তে পারে ধাতু ও খনিজের দামও

জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি ধাতু ও খনিজের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালে ধাতু ও খনিজের গড় দাম গত বছরের তুলনায় ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং ডেটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া মূল্যবান ধাতুর দাম চলতি বছর প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে।

২০২৭ সালে কমতে পারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সামগ্রিক পণ্যমূল্য সূচক ৭ শতাংশ কমতে পারে। তবে এ পূর্বাভাস নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বড় আকারে ছড়িয়ে না পড়া, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে পণ্য রপ্তানির বাধা কমে আসা এবং এল নিনোর কারণে ফসলের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে থাকার ওপর।

পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ২০২৭ সালে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এতে খাদ্যপণ্যের দামও ২০২২ সালের পর্যায় ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, তাদের বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাত থেকে পুঁজি সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।