রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

রবিবার

০১ নভেম্বর ২০২৬

১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর, আন্দোলনরতদের কাজে ফেরার আহ্বান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের অবরোধের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, পোশাকশ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও অধিকার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

এ কারণেই নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন শ্রমিকদের রাস্তা ছেড়ে কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব।

শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। নিরপেক্ষ সদস্য করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে।

এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চার সদস্যের সঙ্গে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের একজন করে প্রতিনিধি যুক্ত করে এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

এই বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, বোর্ডের সদস্যদের দ্রুত বৈঠকে বসে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে কাজ করবেন।

এদিকে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। রোববারও মিরপুর এলাকায় শ্রমিকদের অবরোধের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগের পরও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকায় এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন শ্রমমন্ত্রী।

তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কয়েকটি কারখানায় অযৌক্তিকভাবে ছুটি ঘোষণা এবং মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।