সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সোমবার

০২ নভেম্বর ২০২৬

১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা করলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এসব ঘটনার অডিও, ভিডিও ও সচিত্র প্রমাণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে রোববার গঠিত বোর্ড দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, বোর্ডের প্রথম সভা সোমবারই হতে পারে, অথবা খুব শিগগিরই সভা করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থ, জীবনমানের উন্নয়ন ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহানুভূতিশীলভাবে মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

২০২৩ সালের নভেম্বরে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। সে সময় মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। বর্তমান মজুরি কাঠামোর তিন বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিছু রাজনৈতিক পক্ষ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। এসব ঘটনায় ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কিছু শিল্প ও মিলমালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগও করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা জানতে মালিকপক্ষের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। একইভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে—এমন শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সোমবার সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিকেল ৩টায় শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

সাম্প্রতিক আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকরা জড়িত নন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, কিছু পতিত শক্তি শ্রমিকদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

কারখানা বন্ধের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকট বা রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার কারণে বন্ধ থাকে। সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে গাজীপুর ও কালিয়াকৈর এলাকার কয়েকটি কারখানা এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেগুলো সোমবার চালু হয়েছে।

শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও শিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কোনো কারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না।