বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বুধবার

০৪ নভেম্বর ২০২৬

১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন লিউ হাইশিং। সিপিসি নেতা হিসেবে তাঁর এ সফরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সংকটের দ্রুত সমাধানে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, লিউ হাইশিং জানিয়েছেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন তিনি।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থা চীনের

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন লিউ হাইশিং।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

লিউ হাইশিং জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া তাঁদের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং কৃষির উন্নয়নে অবদান রাখে।

বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কর্মসূচি কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

লিউ হাইশিং বলেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী।

এ সময় বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডোর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

উপপ্রেস সচিব জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথাও জানান লিউ হাইশিং।