শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

শুক্রবার

০৬ নভেম্বর ২০২৬

২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

সর্বাধিক মানুষ উপকৃত হয়, এমন উন্নয়নকাজকে অগ্রাধিকার দিন: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ও ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জনবহুল ও জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রেস্ট হাউজে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন সড়ক ও অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেগুলোর উন্নয়নের ফলে সর্বাধিক মানুষ উপকৃত হবেন। এ জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলো স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন। কোথায় সড়ক সংস্কার প্রয়োজন, কোথায় নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে, কোন এলাকায় সড়কবাতির অভাব রয়েছে কিংবা কোন অবকাঠামোর অভাবে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন—এসব বিষয় স্থানীয় পর্যায় থেকেই চিহ্নিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় কাজের তালিকা তৈরি করে দিলে তা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠানো হবে এবং বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক, নালা-নর্দমা ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের দুর্ভোগে ছিলেন, সেসব এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ নয়, প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং জনগণ এর সুফল পাচ্ছেন কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সড়কের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সভায় চসিকের প্রকৌশল বিভাগের প্রস্তুত করা উপস্থাপনার মাধ্যমে দুই ওয়ার্ডে বিগত সময়ে সম্পন্ন, চলমান ও পরিকল্পনাধীন উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রশাসক। এ সময় ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, প্রাক্কলিত ব্যয় এবং বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়।

উপস্থাপনায় ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ফতেয়াবাদ সিটি করপোরেশন ডিগ্রি কলেজের সংস্কার, ঠান্ডাছড়ি সেকান্দর কলোনি ও আকবরশাহ সড়কের উন্নয়ন, ফকিরহাট সড়ক, শাহজালাল সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও ড্রেন উন্নয়নকাজের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি লেবু কলোনি ও ফতেয়াবাদ কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

অন্যদিকে, ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে আরেফিন নগর টিটিসি রোড ও ড্রেন সংস্কার, চসিকের আবাসিক ও অন্যান্য স্থাপনা সংস্কার, বাংলাবাজার সড়ক, ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন সড়ক এবং বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের তথ্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এডিপিভুক্ত প্রকল্প, দরপত্র প্রক্রিয়াধীন কাজ এবং ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কোন সড়কের উন্নয়ন আগে প্রয়োজন, কোথায় পানি নিষ্কাশনের সমস্যা রয়েছে কিংবা কোথায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি—এসব বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিজ্ঞতা উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত করতে সহায়তা করে। তাই স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পরামর্শ ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত যেসব উন্নয়নকাজ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব এখতিয়ার ও সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর যেসব প্রকল্প অন্য সরকারি সংস্থা বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় কুলগাঁও বাস টার্মিনাল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে চসিক প্রশাসক বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কুলগাঁও বাস টার্মিনাল উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটি চালু হলে এলাকার পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গণপরিবহনসেবা আরও সুশৃঙ্খল হবে।

মতবিনিময় পর্বে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এলাকার অবশিষ্ট সমস্যাগুলো তুলে ধরে নতুন সড়ক নির্মাণ, পুরোনো সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরামর্শ দেন।

তাঁরা বলেন, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজের ফলে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের সুবিধা বেড়েছে। তবে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। এসব কাজ পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবেন।

আলোচনা শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ও চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন স্থানীয় পর্যায়ে চিহ্নিত উন্নয়ন চাহিদাগুলো সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা এবং গুরুত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।