আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেত্রী ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা ঝুমা। রোববার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে মনজিলা ঝুমা জানান, এনসিপি প্রাথমিকভাবে যেসব ১২৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল, তার মধ্যে খাগড়াছড়ি ২৯৮ নম্বর আসনে শাপলা কলি প্রতীকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর তার পক্ষে দলের খাগড়াছড়ি জেলা আহ্বায়ক মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন। সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
তিনি আরও লেখেন, নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি আগেই দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জানিয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টা আগে তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে মনজিলা ঝুমা লেখেন, তিনি বিশ্বাস করেন—তরুণদের সংসদে যাওয়ার সময় আসবেই, আজ না হোক কাল।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা ঝুমা জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খাগড়াছড়ি আসন থেকে এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের সঙ্গে গঠিত নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতায় তার নাম থাকার কথাও আলোচনায় ছিল।
নানা নাটকীয়তার পর জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দলের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট ও আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। এই সমঝোতায় এনসিপি ৩০ থেকে ৩৫টি আসনে নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ঢাকার অন্তত পাঁচটি আসন রয়েছে।
এদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার ঘোষণার আগে ও পরে এনসিপির একাধিক নারী নেত্রী দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বা নির্বাচনী কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা পদত্যাগ করেছেন। নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম নির্বাচনী সময়ে দলের সব কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন।
এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলো এনসিপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

