বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বৈরী পরিবেশে কেবল বিএনপিই এ দেশের মানুষের পাশে থাকে। তিনি বলেন, অন্যরা সংকট দেখা দিলেই পাশের দেশে পালিয়ে যায়, কিন্তু বিএনপি কখনো দেশের মানুষকে ছেড়ে যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েতাগঞ্জে প্রস্তাবিত উপজেলা পরিষদ মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা অতীতে কী দেখেছি? কিছু হলেই কেউ কেউ পাশের দেশে চলে যায়। এখনও চলে যাচ্ছে। গতকালও দেখলাম একজন পালিয়ে গিয়েছিল—কোথায় জানেন? পিন্ডিতে পালিয়ে গিয়েছিল। যারা ষড়যন্ত্র করছে, যারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে—তাদেরই একজন পিন্ডিতে পালিয়ে গেছে। কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। কিন্তু বিএনপি রয়ে গেছে এই দেশে, এই দেশের মানুষের পাশে।”
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া কোথাও যাননি। তিনি এই দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাননি। মৃত্যুকে মেনে নিয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন, প্রতিবাদ করেছেন; কিন্তু কখনো দেশ ছেড়ে পালাননি। খালেদা জিয়া নিজেই বলেছেন—এই দেশই তাঁর প্রথম ও শেষ ঠিকানা। তাই বিএনপিও বলে, ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ।’”
জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “আবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ষড়যন্ত্র চলছে। তাদের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করছে, বিশেষ করে নিরীহ মা-বোনদের মোবাইল নম্বর নিচ্ছে। বিকাশ নম্বর নিয়ে বলছে টাকা পাঠাবে। এভাবেই তারা মানুষকে প্রলুব্ধ করার পরিকল্পনা করছে।”
তিনি বলেন, “এদের মধ্যে অনেকেই ধরা পড়েছে, পত্র-পত্রিকায় খবর এসেছে। তাহলে যারা নির্বাচনের আগেই এভাবে অসৎ কাজ করে, তারা কীভাবে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে? পারবে না। যারা আগেই দুর্নীতি করে, তারা ক্ষমতায় গেলেও সৎ হতে পারে না।”
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “এই দেশে একমাত্র শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন কীভাবে দুর্নীতি দমন করতে হয়। এটা আমাদের কথা নয়—আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়ন। তারা দেখিয়েছে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় দুর্নীতি কীভাবে দেশকে গ্রাস করেছিল।”
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশ পরিচালনায় জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে এবং আগামীতেও জনগণের স্বার্থেই রাজনীতি করবে।

