সংবিধানকে কেন্দ্র করে ওঠা সমালোচনার জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংবিধানকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা তিনি করেছেন এবং তা গর্বের সঙ্গেই স্বীকার করেন। তার ভাষায়, এই সংবিধান দেশের অস্তিত্ব, আবেগ এবং ১৯৭১ সালের শহীদদের রক্তের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানের অনেক ধারা ও অধ্যায় বারবার পরিবর্তনের ফলে এটি অনেকটা ‘ছেঁড়া পাতায়’ পরিণত হয়েছে। তবে তবুও এটি দেশের মূল ভিত্তি, যার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল।
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা না থাকলে দেশে অরাজকতা তৈরি হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘পরিবর্তনের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারী ক্ষমতায়ন ও কৃষি উন্নয়নে তার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করছেন এবং তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপির মহাসচিব অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের লেখায় উল্লেখ আছে—জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানও তিনি তুলে ধরেন।
লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই বৈঠক নিয়ে যারা বিদ্রূপ করেন, তা দুঃখজনক। সেই বৈঠকের ফলেই নির্বাচন আয়োজনের পথ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিগত আন্দোলনে সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানো গেছে, যেখানে অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
নির্বাচন নিয়ে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শব্দ ব্যবহার করে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের বক্তব্য জনগণ গ্রহণ করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সবার দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তিনি।

