প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে এবং প্রস্তুতি শেষ হলেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে—সব স্তরের নির্বাচন শেষ করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে।
তিনি জানান, নির্বাচন আয়োজনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, কেন্দ্র নির্ধারণ ও সংস্কার, কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ নানা প্রস্তুতি নিতে হয়। এছাড়া ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা ও আবহাওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হয়। তফসিল ঘোষণার আগেই কমপক্ষে ৪৫ দিনের প্রস্তুতি প্রয়োজন হয়।
সংসদে ইভিএম প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রায় দেড় লাখ ইভিএম কেনায় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তবে এ প্রকল্প নিয়ে অডিট আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের অধীনেও তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সভায় জাতীয় ও স্থানীয় কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব ইভিএম বিভিন্ন গুদাম ও সংশ্লিষ্ট স্থানে সংরক্ষিত রয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নতুন বিভাগ গঠনের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে।
সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

