রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্প্যানিশরা।
রোববার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামাল দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় গোল বঞ্চিত হয় স্প্যানিশরা।
প্রথমার্ধজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোল করতে পারেনি স্পেন। এ সময় তারা তিনটি শট নেয়, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে লক্ষ্যভেদী তো দূরের কথা, কোনো শটই নিতে পারেনি।
৪১তম মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। পরে ইনজুরির কারণে তাকে তুলে নিয়ে নিকোলাস ওতামেন্দিকে মাঠে নামানো হয়।
প্রথমার্ধে বল দখলে স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তারা প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, যেখানে আর্জেন্টিনার দখলে ছিল ৩৫ শতাংশ। পাসের সংখ্যাতেও স্পেন ছিল অনেক এগিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্পেন। তবে একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে স্প্যানিশ খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ডে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে গোল বাতিল হয়। তবে ১০৬তম মিনিটে আর ভুল করেনি স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের বাড়ানো বল থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস।
শেষ দিকে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। কয়েকটি আক্রমণ করলেও স্পেনের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি লিওনেল মেসির দল।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলার ও সমর্থকরা। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জিতে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করল স্পেন।

