সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত তাইবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের হামলা ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থানের পবিত্রতার ওপর সরাসরি আঘাত।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে—এমন যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকার।
চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অভিযোগ করে, হুতি গোষ্ঠী মদিনার ওই বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জোটের দাবি, হামলায় কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও মূল বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়েনি।
তবে হুতিরা সৌদি জোটের এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের পাল্টা অভিযোগ, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রও সানায় জোট বাহিনীর ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়।
এরপর হুতিদের আন্তসীমান্ত হামলা ও লোহিত সাগর উপকূলে তাদের তৎপরতার জবাবে ইয়েমেনে সৌদি আরব নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

