সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

গড় আয়ুতে এগিয়ে বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

দক্ষিণ এশিয়ায় গড় আয়ুর সূচকে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত সর্বশেষ শুমারি ও পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

- Advertisement -

২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের গড় আয়ু, সুস্থ অবস্থায় বেঁচে থাকার সময়কাল, মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং রোগের সার্বিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে এই বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এই সংস্থা।

ডব্লিউএইচওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৭ বছরে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। একই সময়ে ভারতে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে তা ছিল সবচেয়ে কম, ৬৮ দশমিক ২ বছর।

চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নতির প্রতিফলনই বাংলাদেশের এই অর্জন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে: বেশি দিন বাঁচা মানেই সব সময় রোগমুক্ত বা সুস্বাস্থ্যে বেঁচে থাকা নয়। মানুষের জীবনকাল বাড়লেও জীবনের শেষ বছরগুলোতে অনেকেই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগেন।

উদাহরণ হিসেবে ভারতের সুস্থ গড় আয়ুর কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সালে ভারতীয়দের সুস্থ গড় আয়ু ছিল ৬০ দশমিক ৬ বছর, যা ২০১৯ সালেও প্রায় কাছাকাছি (৬০ দশমিক ৫ বছর) ছিল। মাঝখানে করোনা মহামারির প্রভাবে ২০২১ সালে তা কমে ৫৮ দশমিক ৪ বছরে নেমে আসে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২০২২ সালে তা আবার বেড়ে ৬০ দশমিক ২ বছরে পৌঁছায়।

গড় আয়ু বৃদ্ধিকে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় অর্জন হিসেবে দেখলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

ডব্লিউএইচওর ডাটা বিভাগের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক বলেন, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্যের জন্য নিঃসন্দেহে বড় মাইলফলক। তবে বর্তমান ও আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু সংখ্যায় দীর্ঘ জীবন নয়, বরং মানুষ যেন রোগমুক্ত ও সুস্থ শরীরে বেশি দিন বাঁচতে পারে, তা নিশ্চিত করা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও