বিএনপির সঙ্গে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলের সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের গুলফেশা টাওয়ারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে—এলডিপি আর কোনো জোটে থাকবে না, দলটি এককভাবে নির্বাচন করবে।
অলি আহমদ বলেন, “দলের যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক, তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। এলডিপি নিজের শক্তিতেই নির্বাচনের মাঠে থাকবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল আলম তালুকদার, লে. জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রম, ড. নিয়ামুল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার বিষয়ে অলি আহমদ বলেন, “বিএনপির বিপদের সময় সবাই আমার বাসায় ছুটে আসত। অথচ এখন কোনো নেতা ফোন পর্যন্ত করেন না। আমরা ১২–১৪টি আসন চাইনি, অন্তত ৮–৯টি আসন দিলে দলটা টিকে যেত। কিন্তু মাত্র একটি আসন দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, গতকাল প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়ে চার ঘণ্টার বৈঠক হয়। সেখানে দলের মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ এলডিপিকে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে সবাই দস্তখত করে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, “আমি নিজে তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রার্থীদের তালিকা পাঠিয়েছি। কিন্তু কোনো বৈঠক হয়নি। তাই আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।”
তিনি বলেন, “আমরা এলডিপিকে বিলুপ্ত করতে চাই না। সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এলডিপির জন্ম হয়েছিল। আমরা সেই আদর্শেই অটল থাকব।”
এদিকে, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ বলেন, “তার পদত্যাগপত্র আমার কাছে আসেনি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে এলডিপির এই সিদ্ধান্তকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাঙন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

