ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করে সিলেটে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৫–১৬ বছরে উন্নয়নের নামে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, “২০০৫ সালে বন্যার সময় আমি সুনামগঞ্জে এসেছিলাম, তখন ঢাকা থেকে আসতে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো সময় লেগেছিল। অথচ আজ ঢাকা থেকে সিলেট বা সিলেট থেকে ঢাকায় আসতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। এটাকেই আজ উন্নয়নের ফিরিস্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।”
তারেক রহমান বলেন, “সিলেটের বহু মানুষ আছেন যারা লন্ডনে যাতায়াত করেন। প্লেনে করে লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না—এই হচ্ছে তথাকথিত উন্নয়নের বাস্তব চিত্র।”
বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে একের পর এক নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। “আমরা দেখেছি কীভাবে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, কীভাবে ডামি নির্বাচন হয়েছে, কীভাবে নিশিরাতের ভোট হয়েছে। এসব তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে, যারা রাজপথে নেমে এসে নির্যাতিত হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আবার আমাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার পথে নেমেছি।”
জনসভায় ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ স্লোগানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “টেক ব্যাক বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের অধিকার আদায় করা।” এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিএনপির ঘোষিত ২১ দফা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। “প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতেই আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে চাই। গ্রাম ও শহরের দুস্থ, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলেই সংসার সুন্দর হয়। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা, স্ত্রী কিংবা বোনের হাত ধরে পরিবার সহযোগিতা পাবে।”
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, “এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।” এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মাঠ মুখর করে তোলেন।

