সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট মুক্ত দেশ গড়া হবে—জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় সফরকালে তিনি নির্যাতিত ও শহীদ পরিবারের খোঁজ নিতে এসেছিলেন। সে সময় তিনি দ্বীনদার ও ইমানদার ৪৫ জন শহীদের পরিবার, বিধবা মা-বোন এবং বাবা হারানো শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, “সেদিন আমি মায়েদের চোখের পানি ও রক্তের ফোঁটা দেখেছি।”

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অন্যায় ও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সাতক্ষীরায়। বুলডোজার দিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারা কী অপরাধ করেছিল।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় সফরের সময় স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগ শুনেছেন। অনেকেই বলেছেন, সরকার সাতক্ষীরাকে দেশের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেয়নি এবং এ জেলার সঙ্গে সৎমায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে।

জামায়াত আমির দাবি করেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, “আল্লাহ যাকে চান সম্মান দেন, আর যাকে চান কেড়ে নেন।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম ও ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়। বহু মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না এবং প্রতিশোধের রাজনীতিতে জড়ানো যাবে না।

তিনি দাবি করেন, সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে জামায়াতের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজিতে জড়ায়নি এবং অন্যায়ভাবে কাউকে মামলা দেওয়া হয়নি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সাংবাদিক, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “অনেক সময় জুলুমের শিকার মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়—এ কারণেই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা জরুরি।”

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমর্থন চান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও