সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“শীর্ষ পদ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর অধিকার”—নুরুন্নেসা সিদ্দিকা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দিকা বলেছেন, নারীরা জামায়াতের শীর্ষ পদে আসতে পারবে না—এটি মেনে আমরা রাজনীতি করি। পুরুষরা নারীদের ‘পরিচালক’ এবং তাই দলের শীর্ষ পদে যাওয়াটা নিজেদের জন্য ‘মুখ্য’ মনে করে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ।

- Advertisement -

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়। এদিন বিকেলে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করে, যেখানে দলের মহিলা বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রচারে নারীদের ওপর হামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রহমান এবং রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত হাবিবা চৌধুরী।

হাবিবা চৌধুরী বলেন, “দেশের মোট ভোটারের ৫০ শতাংশ নারী। আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। বিগত ১৫-১৬ বছরে আমাদের মা-বোনেরা ভোট দিতে পারেননি। এবার সেই সুযোগ নষ্ট করতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্র করছে। দেশের ১৫টি স্থানে নারীদের ওপর হামলার সচিত্র নথিপত্র আমরা কমিশনে জমা দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নারীরা অবলা নয়, আমরা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।”

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নুরুন্নেসা সিদ্দিকা বলেন, “জামায়াতে ইসলাম একটি ইসলামী সংগঠন। ইসলামী সংগঠন ইসলাম মেনে চলে—এটাই স্বাভাবিক। আল্লাহতালা কোরআনে বলেছেন, পুরুষ নারীর ‘পরিচালক’—এটি ফরজ। তাই কোনো ইসলামী সংগঠনে নারীরা শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে পারে না। শীর্ষ পদ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা।”

তিনি আরও বলেন, “গত ৫৪ বছরে দেশে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নারীদের নিরাপত্তা কি বেড়েছে? আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যারা মানবিক হবে।”

নুরুন্নেসা সিদ্দিকা দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামের মজলিসে শুরার উপদেষ্টা কমিটিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনে তারা বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের অভিযোগকে তিনি ‘আজগুবি’ বলে উড়িয়ে দেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও