দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে বাংলাদেশে এই প্রথম একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ফজরের নামাজ শেষ করেই দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। তবে শেরপুর-৩ আসনে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
ভোট শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে ভোটাররা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারলেও পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে কাগজপত্র যাচাইসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের পক্ষে স্থাপিত অস্থায়ী বুথ থেকে ভোটারদের ভোটার নম্বরসহ স্লিপ বিতরণ করতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের ভিড় দেখা যায়। অনেক কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে পোলিং এজেন্টরাও কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন।
ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
রাজধানীর মগবাজার বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ফজরের নামাজের পরই একাধিক ভোটার কেন্দ্রে এসে অপেক্ষা করছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় আগেভাগেই কেন্দ্রে এসেছেন।
ভোটার মোহাম্মদ ফারুক বলেন, “অনেক বছর পর ভালো পরিবেশে ভোট হচ্ছে। তাই নামাজ শেষ করেই চলে এসেছি। ভোট শুরুর আগ পর্যন্ত চা-নাস্তা খেয়ে সময় কাটাবো, তারপর ভোট দিয়ে যাব।”
অপর ভোটার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “সকালে পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে। বয়স হয়েছে, কোনো ঝামেলা হলে সমস্যা—তাই সকালেই ভোটটা দিয়ে যাচ্ছি।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সারাদেশে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যার পর পর্যায়ক্রমে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

