বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কালবৈশাখীর ছোবলে ডুবছে চট্টগ্রাম, বৃষ্টির দাপট থামার নয়

শাহরিয়ার মুনির জিসান

কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে হওয়া বৃষ্টিতে নগরের নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে যায়। জিইসি মোড়, কাতালগঞ্জ ও প্রবর্তন মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেখা গেছে জলাবদ্ধতার চিত্র। অনেককে পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ সৃষ্টি অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নগরে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহন কমে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, অল্প দূরত্বে যেতেও রিকশা ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। পানি জমে রাস্তা ও ফুটপাত একাকার হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল-নালা ভরাট, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ড্রেনেজ লাইনে ময়লা জমে থাকার কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তারা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৯৬ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

টানা বৃষ্টি ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সামনে আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে নগরবাসীর পক্ষ থেকে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও