দেশে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪১৫ থেকে ৫১৫ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে দেশে এলপিজি আমদানি কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টনে। এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা ২৫ শতাংশ।
গত ২ সেপ্টেম্বর চলতি মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এলপিজি আমদানি কমে যাওয়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় জাহাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়।
বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কেউ কেউ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রতি টন এলপিজি আমদানিতে কার্গো প্রিমিয়াম ছিল ১৬০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি খরচ ও কার্গো প্রিমিয়ামের বিষয়টি বিইআরসির নির্ধারিত দামে পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। ফলে তাঁদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক আমদানিকারক এলপিজি আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জাহাজ সময়মতো বন্দরে পৌঁছাতে না পারায় সেপ্টেম্বরে এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।

