রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

হায়দ্রাবাদ থেকে সিডনি—উগ্রবাদে জড়ানোর দীর্ঘ পথচলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্র সৈকতে বন্দুক হামলার ঘটনায় দুই হামলাকারীর একজন ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে ভারতীয় পুলিশ। তিনি হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা ছিলেন এবং প্রায় তিন দশক আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর পরও তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব হনুক্কা উদযাপন চলাকালে বন্ডাই সৈকতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। পুলিশ জানায়, হামলাকারী দুজন বাবা-ছেলে।

হামলার সময় ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তার ছেলে নাভিদ আকরাম (২৪), যিনি হামলায় তার সঙ্গে ছিলেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি জীবিত আছেন এবং বর্তমানে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অস্ট্রেলিয়ান তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছেন।

তেলেঙ্গানা রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক জানান, সাজিদ আকরাম ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে ছাত্র ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যান। ভারত ছাড়ার আগে তিনি হায়দ্রাবাদে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশের তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার কারণে হায়দ্রাবাদে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুবই সীমিত ছিল। তেলেঙ্গানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আকরামের কথিত ‘মৌলবাদ’-এর সঙ্গে ভারতের কোনো কার্যকরী বা আদর্শিক সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাজিদ আকরাম সর্বশেষ ২০২২ সালে হায়দ্রাবাদে গিয়েছিলেন। যদিও তার সন্তানরা—এক ছেলে ও এক মেয়ে—অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করে এবং তারা অস্ট্রেলীয় নাগরিক।

তদন্তকারীরা জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণে কয়েক বছর আগেই হায়দ্রাবাদে বসবাসরত তার যৌথ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এমনকি ২০১৭ সালে তার বাবার মৃত্যুর সময়ও তিনি জানাজায় অংশ নেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের সময় আকরাম ভেনেরা গ্রোসো নামে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান নিয়ে পরিবারটি অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছিল।

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট এক বিবৃতিতে হামলাটিকে ‘ইসলামিক স্টেট দ্বারা অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।